ঢাকা, মার্চ ০১: শেয়ার ব্যবসা করতে হলে বিভিন্ন ধরনের হিসাব নিকাশের প্রয়োজন রয়েছে। ব্যবসায় পারদর্শী না হলে এখানে বিনিয়োগ করা ঠিক নয়। এ বিষয়ে সকল স্টেকহোল্ডার একমত। পাশাপাশি শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) শেয়ার ব্যবসাকে অন্য ব্যবসার মতোই ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিনিয়োগকারীদের অবহিত করেছে। তাই শেয়ারবাজারে পেশাদারী বিনিয়োগের পরিমান বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
আমাদের দেশের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে গুজবনির্ভরতা এবং পরমার্শ ভিত্তিক বিনিয়োগ প্রবণতা বেশি। তাই এখানে যে কোনো ধরনের গুজবে ভালো সাড়া পাওয়া যায়। এ সুযোগে কারসাজি চক্র প্রায়ই এ গুজবকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ফায়দা লুটে থাকে। কারসাজি চক্রের ফাঁদে পা দিয়ে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।
তবে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন, যারা অত্যন্ত হিসেবি। কোনো কোম্পানিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোম্পানির প্রয়োজনীয় তথ্য জেনে তারপর বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন অনেকে। এ ধরনের বিনিয়োগকারীরা গুজবে নির্ভরশীল নন। পাশাপাশি এদের লোকসানের পরিমান তুলনামুলক কম। ধসের মধ্যে সব ধরনের বিনিয়োগকারীর ক্ষতির পরিমান বেশি হলেও পরবর্তীতে এ ধরনের বিনিয়োগকারীরা লোকসান কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছেন। বিভিন্ন সিকিউরিটিজ হাউজ এবং মার্চেন্ট ব্যাংকে কথা বলতে এ ধরনের তথ্য জানা গেছে।
এ প্রসঙ্গে একটি সিকিউরিটিজ হাউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ২০১০ সালের ধসে বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পাশাপাশি কেউ না কেউ লাভবানও হয়েছে। শেয়ারবাজারের ধর্মটাই এমন। এক পক্ষ লাভবান হলে অন্য পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হবেই। আর গুজবনির্ভর লেনদেনের পরিমান বেশি হবার কারণে একপক্ষ খুব সহজেই ফায়দা লুটে নিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে একটি শীর্ষস্থানীয় মার্চেন্ট ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বলেন, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যাদের ব্যবসা বুঝতে সমস্যা রয়েছে তাদের মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করা উচিত। কারণ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ অনেক বেশি প্রফেশনাল। তাই ঝুঁকিও কম থাকে। আমাদের দেশের শেয়ারবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর চেয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীর সংখ্যা তুলনামুলক বেশি। তাই তাদের মধ্যে প্যানিক সৃষ্টি হলে বাজারে দ্রুত পতন নেমে আসে।
আরেক মার্চেন্ট ব্যাংকার বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা মূলত: দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ করে। তাই হঠাৎ করেই লেনদেনের সিদ্ধান্ত নেয়াটা তাদের জন্য কঠিন। আর মিউচ্যুয়াল ফান্ড বা মার্চেন্ট ব্যাংক যেহেতু গ্রাহকের টাকা বিনিয়োগ করে তাই মুনাফাসহ ফেরৎ দেবার একটা বিষয়টাও মাথায় রাখতে হয়। তাই অনেক ক্যালকুলেশনের পরই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ ধরনের সিদ্ধান্ত হঠাৎ করে বদলানোর সম্ভাবনা কম। তাই প্যানিক সেলের প্রবণতা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কম।
তিনি আরো বলেন, সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যবসা করলে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ক্ষমতা বাড়বে। পাশাপাশি সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও নির্দিষ্ট সময় পর তাদের মুনাফা তুলে নিতে পারবেন। এতে করে বাজারের স্বাভাবিক গতি বজায় থাকবে বলে মনে করনে তিনি।