ঢাকা, মার্চ ০১: শেয়ারবাজারে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর অমনিবাস হিসাবের নন-ডিসক্রিশনারি পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্ট থেকে আলাদাভাবে বেনিফিশিয়ার ওনার্সে (বিও) স্থানান্তর প্রক্রিয়া সিংহ ভাগ প্রস্তুত করা হয়েছে। এরপরে এ হিসাব থেকে সংশ্লিষ্ট বিওধারীরা আলাদাভাবে তাদের লেনদেন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। এছাড়া ২/৪ প্রতিষ্ঠান এখনও তাদের কার্য সম্পন্ন করতে পারেনি। তবে অতিদ্রুত তাদের আলাদা করণের কাজ সম্পন্ন করবে। একাধিক মার্চেন্ট ব্যাংক ও ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের ডিসেম্বরে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধ্বস নামে। এরপরে কারণ খুঁজতে পরের বছর ২০১১ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খন্দকার ইব্রাহিম খালেদের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সরকার। এ কমিটি দুই মাস তদন্ত কার্যক্রম শেষে সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই প্রতিবেদনে বাজার ধ্বসের পিছনে যতগুলো কারণ উত্থাপন করা হয়েছিল তার একটি ছিল মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো অমনিবাস হিসাব। এ হিসাবের মাধ্যমে কারসাজি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। একইসঙ্গে এ হিসাব বন্ধের ব্যাপারে সরকারের কাছে সুপারিশ করা হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় গত বছর ৩০ সেপ্টেম্বর নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে আলাদা হিসাবে অমনিবাস রূপান্তরের জন্য বলা হয়। পরে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ) সময় বাড়ানোর আবেদন করে। এ প্রেক্ষিতে বিএসইসির ৩০ ডিসেম্বর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘মার্চেন্ট ব্যাংকারগুলোকে সব নন-ডিসক্রিশনারি গ্রাহকদের হিসাব আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পৃথক বিও হিসাবে রূপান্তর করতে হবে। একই সঙ্গে প্রত্যেক মার্চেন্ট ব্যাংকারের জন্য নিজস্ব কাস্টডি ডিপির মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের বাধ্যতামূলকভাবে বিও হিসাব খুলতে হবে। এ প্রেক্ষিতে বিএসইসি গত মঙ্গলবা কমিশন সভায় মার্চেন্ট ব্যাংকের নন-ডিসক্রিশনারি পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্রে অমনিবাস হিসাব পৃথক বিওতে রূপান্তরের সময়সীমা বাড়ানো হচ্ছে না বলে জানিয়েছে। একইসঙ্গে পৃথক বিও হিসাবে রূপান্তরের সময়সীমা বৃদ্ধি সংক্রান্ত আবেদন বিবেচনা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি।
এ বিষয়ে কয়েকটি মার্চেন্ট ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর অমনিবাস হিসাব থেকে প্রত্যেক বিনিয়োগকারীর আলাদা বিও হিসাব খোলার জন্য বিএসইসি থেকে দুই মাস সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছিল। এ সময়ের মধ্যে প্রায় ৯০ ভাগ মার্চেন্ট ব্যাংক তাদের নন-ডিসক্রিশনারি হিসাব থেকে আলাদা বিও হিসাবে রূপান্তর কার্যক্রম প্রস্তুত করেছে। এছাড়া হাতে গোনা ৪/৫ বড় ইক্যুইটি প্রতিষ্ঠান তাদের হিসাবজনিত কার্য পুরোপুরি সম্পন্ন করতে পারেনি। তবে তারাও নন-ডিসক্রিশনারি থেকে বিনিয়োগকারীদের জন্য আলাদা বিও হিসাব করে ফেলবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরো জানা যায়, মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো অমনিবাস হিসাবের মাধ্যমে দুই ধরনের হিসাব রয়েছে। এর মধ্যে একটি ডিসক্রিশনারি অপরটি নন-ডিসক্রিশনারি। ডিসক্রিশনারি হিসাবের মাধ্যমে তারা লেনদেন না করলেও নন-ডিসক্রিশনারি থেকে ডিসক্রিশনারির আদলে লেনদেন পরিচালনা করত। এ অবস্থায় নন-ডিসক্রিশনারি থেকে প্রত্যেক বিনিয়োগকারীর আলাদাভাবে বিও হিসাব প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে অমনিবাস হিসাবে ডিসক্রিশনারি হিসাব দ্বারা লেনদেন করতে পারবে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো। এ হিসাবের ধরন হচ্ছে, দেশীবিদেশী বিনিয়োগকারী এবং বড় ব্যক্তি বিনিয়োগকারী তাদের অর্থ যদি শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হয় এবং সময় দিতে না পারে সেক্ষেত্রে মার্চেন্ট ব্যাংকের পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্টের ওপর ছেড়ে দেবে। তারাই (পোটফোলিও ম্যানেজমেন্ট) তাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা দিয়ে এ হিসাবে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীর লেনদেনে সম্পাদান করবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএমবিএর সহ-সভাপতি তানজিল চৌধুরী শেয়ারনিউজ২৪ডটকমকে বলেন, বিএসইসি থেকে অমনিবাস হিসাবে নন-ডিসক্রিশনারি থেকে প্রত্যেক বিনিয়োগকারীর আলাদা বিও খোলার জন্য দুই মাস সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো সে অনুযায়ি তাদের কার্য প্রস্তুত করেছে। এ কারণে সময় বাড়ানোর কোন প্রয়োজন দেখা দেয়নি। সব মিলিয়ে নন-ডিসক্রিশনারি হিসাব নিয়ে যে ধরনের আলোচনা সমালোচনা হয়েছে তার একটি ইতিবাচক সমাপ্তি ঘটবে বলে তিনি মনে করেন। একইসঙ্গে এ বিষয়টি নিয়ে ভয়ের কোন কারন নেই।