ঢাকা, মার্চ ০১: সাঈদীর ফাঁসির রায়কে কেন্দ্র করে সহিংসতায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় চারজন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে গাইবান্ধায় তিনজন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে একজন নিহত হন।
গাইবান্ধায় নিহত তিনজন হলেন পুলিশ কনস্টেবল তোজাম্মেল হক, শরিফুল ইসলাম ওরফে নুরুন্নবী (২৫) ও সাজু মিয়া (৩০) এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের আবদুর রহিম।
আজ সকাল আটটার দিকে জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে গাইবান্ধায় শান্তিরাম ইউনিয়নের গংসারহাট বাজারে হঠাত্ শরিফুল ইসলামের পানের দোকানে হামলা চালান। তাঁরা শরিফুলকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। এ সময় শরিফুলকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে জামায়াত-শিবির কর্মীরা সাজু মিয়া (৩০) ও ফুল মিয়া (৫৫) নামে দুজনকে বেদম মারধর করে। পরে তাঁদের আহত অবস্থায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। দুপুরে সেখানে চিকিত্সাধীন অবস্থায় সাজু মারা যান।
উপজেলার শান্তিরাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সুরঞ্জিত কুমার দাবি করেন, নিহত শরিফুল ও সাজু আওয়ামী লীগের কর্মী।
এদিকে, গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে পুলিশের ছয়জন সদস্যকে পেটান জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। আহত অন্য তিনজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিত্সাধীন অবস্থায় আজ ভোরে কনস্টেবল তোজাম্মেল মারা যান।
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর রহমান তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুরে আজ বেলা পৌনে ১১টার দিকে দুদলের সংঘর্ষে আবদুর রহিম নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক শাহ আলম জানান, নিহত ওই ব্যক্তি জামায়াত-শিবিরের সমর্থক ছিলেন।
আবদুর রহিমের বাড়ি নামোধোবড়া গ্রামে। শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারজিল হাসান জানান, বেলা পৌনে ১১টার দিকে সংঘর্ষ শুরু হয়। থেমে থেমে বেশ কিছুক্ষণ সংঘর্ষ চলে। এতে কয়েকজন আহত হন।