ঢাকা, মার্চ ০১: দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে পতনে নিমজ্জিত থাকা শেয়ারবাজার কিছুটা স্থিতিশীলতার পথে হাটতে শুরু করলেও আবার পতনের দিকে ধাবিত হচ্ছে। সরকার, অর্থমন্ত্রী, বিএসইসিসহ সকল পক্ষের নানা উদ্যোগে যখন বাজার স্থিতিশীলতায় ফিরছেলো না ঠিক তখন এফবিসিসিআই এবং ডিএসইসহ সকল পক্ষের উদ্যোগে আবার বাজার স্থিতিশীতার পথে হাটতে শুরু করে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাজারের পতনকে রাজনৈতিক অস্থিরতাকেই দায়ি করেছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পর পর দুই সপ্তাহে পতনে শেষ হয়েছে দেশের উভয় শেয়ারবাজারের লেনদেন। গত সপ্তাহে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সাধারণ সূচক কমেছে ২০৭ পয়েন্ট আর লেনদেন আগের সপ্তাহের চেয়ে কমেছে ৫শত কোটি টাকার উপরে। অর্থাৎ গত সপ্তাহের ডিএসইতে লেনদেন কমেছে ২৬ শতাংশ।
গত সপ্তাহে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) পাঁচ কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দুই কার্যদিবস সূচক বেড়েছে ৬৬ পয়েন্ট আর তিন কার্যদিবসই কমেছে ২৭৩ পয়েন্ট। অর্থাৎ সার্বিকভাগে গত সপ্তাহে ডিএসই’তে সূচক কমেছে ২০৭.৩৩ পয়েন্ট বা ৪.৮৭ শতাংশ। এর আগের সপ্তাহে ডিএসইতে সূচক কমেছিলো ১৪২.২৯ পয়েন্ট বা ৩.২৪ শতাংশ। অপরদিকে ডিএসইতে চালু হওয়া নতুন সূচক কমেছে ১৮২.১৭ পয়েন্ট বা ৪.৩৮ শতাংশ। গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ২৮৮টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বাড়ে ১৮টির, কমে ২৬৫টির, অপরিবর্তিত থাকে ২টির আর ৩টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শেয়ার লেনদেন হয়নি।
গত সপ্তাহে ডিএসই’তে সূচকের সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। অর্থাৎ গত সপ্তাহে ডিএসই’র পাঁচ কার্যদিবসে মোট লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৪১৬ কোটি ৮৮ লাখ ১৩ হাজার ১৫০ টাকা। আগের সপ্তাহে যার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৯৩১ কোটি ৩৮ লাখ ৪ হাজার ৫৬৩ টাকা। আগের সপ্তাহের তুলনায় গত সপ্তাহে ৫১৪ কোটি ৪৯ লাখ ৯১ হাজার ৪১৩ টাকা বা ২৬.৬৪ শতাংশ কম লেনদেন হয়েছে। ডিএসই’র গড় লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৮৩ কোটি ৩৭ হাজার ৬২ হাজার ৬৩০ টাকা।
সপ্তাহ শেষে ডিএসই’তে টপটেন গেইনারের শীর্ষে অবস্থান করে নেয় ওষুধ ও রসায়ন খাতের ওরিয়ন ইনফিউশন লিমিটেড। সপ্তাহ শেষে এ প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার দর ৭.০৯ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় এ অবস্থানে ওঠে আসে। সপ্তাহজুড়ে ডিএসই’র টপটেন গেইনারে থাকা অপর কোম্পানিগুলো হলো- প্রাইম ফাইন্যান্স ৫.১৫ শতাংশ, সালভো কেমিক্যাল ২.৫৯ শতাংশ, ন্যাশনাল টিউব ২.১২ শতাংশ, আইসিবি এএমসিএল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড ১.৯৮ শতাংশ, পূবালী ব্যাংক ১.৭৩ শতাংশ, বার্জার পেইন্টস ১.৪৯ শতাংশ, পঞ্চম আইসিবি মিউচ্যুয়াল ফান্ড ১.৩৩ শতাংশ, ইস্টার্ন ব্যাংক ১.২৫ শতাংশ এবং প্রাইম ইসলামী লাইফ ১.১১ শতাংশ।
অপরদিকে টপটেন লুজারের শীর্ষে ওঠে আসে বস্ত্র খাতের মডার্ন ডাইং অ্যান্ড স্ক্রিণ প্রিন্টিং লিমিটেড। সপ্তাহ শেষে এ প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার দর ২৪.১৫ শতাংশ কমে গেলে এ অবস্থানে নেমে যায়। লুজারে থাকা অপর প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- গ্রীণ ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স ২১.২২ শতাংশ, সাভার রিফ্রাক্টরিজ ১৮.৩১ শতাংশ, আরএকে সিরামিক ১৮.০০ শতাংশ, কে অ্যান্ড কিউ ১৫.২৫ শতাংশ, ফাস ফাইন্যান্স ১৪.৯২ শতাংশ, পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ১৩.১৬ শতাংশ, বিএসসি ১২.৭৪ শতাংশ, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিল ১১.৮৫ শতাংশ এবং মাইডাস ফাইন্যান্স ১১.৪১ শতাংশ।
এদিকে দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গত সপ্তাহ সূচক কমেছে। তবে লেনদেন সামান্য বেড়েছে। সিএসইতে গত সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে এক কার্যদিবস সূচক বেড়েছে ১৩৮ পয়েন্ট আর চার কার্যদিবস সূচক কমেছে ৫৩৯ পয়েন্ট। অর্থাৎ সার্বিকভাবে গত সপ্তাহে সিএসইতে সূচক কমেছে ৪০৩.৪৯ পয়েন্ট বা ৪.৮৭ শতাংশ। এর আগের সপ্তাহে সূচক কমেছিলো ২৯২.৩৪ পয়েন্ট বা ৩.৩৯ শতাংশ। গত সপ্তাহে সিএসইতে মোট ২১৩টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বাড়ে ১১টির, কমে ২০০টির আর অপরিবর্তিত থাকে ২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর।
গত সপ্তাহে সিএসইতে সূচক কমলেও বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২১৭ কোটি ৩৩ লাখ ৯ হাজার ৭৯৪ টাকা। যা আগের সপ্তাহের চেয়ে ৪ কোটি ৬৯ লাখ ২৩ হাজার ৫৮ টাকা বেশি। এর আগে সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ২১২ কোটি ৬৩ লাখ ৮৬ হাজার ৭৩৬ টাকা। সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে গড় লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৩ কোটি ৪৬ লাখ ৬১ হাজার ৯৫৮ টাকা।