ঢাকা, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪
Sharenews24

অবৈধ সম্পদ ও দেশ ছাড়া নিয়ে যা বললেন আছাদুজ্জামান মিয়া

২০২৪ জুন ২০ ০৯:২১:৩৬
অবৈধ সম্পদ ও দেশ ছাড়া নিয়ে যা বললেন আছাদুজ্জামান মিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের যেসব তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, অবৈধ সম্পদের ওপর সেসব অভিযোগ ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ দাবি করেছেন তিনি।

বর্তমানে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করা আছাদুজ্জামান মিয়া টেলিফোনে একটি গণমাধ্যমকে বলেছেন, তার সব সম্পদ বৈধ আয়ে উপার্জিত অর্থ দিয়ে কেনা।

তিনি বলেন, সস্ত্রীক দেশ ছেড়ে আমেরিকায় পাড়ি জমানোর তথ্যও সঠিক নয়। তিনি তার স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য বর্তমানে সপরিবারে সিঙ্গাপুরে রয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি যখন চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে এলাম, তার কয়েকদিন পর পরিকল্পিতভাবে এসব খবর প্রকাশ করা হয়েছে।’

দুর্নীতি ও দেশত্যাগের খবর নিয়ে কথা বলতে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে আছাদুজ্জামান মঙ্গলবার বলেন, ‘এসব সংবাদ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং সরকারকে বিতর্কিত করতে প্রকাশিত হয়েছে।’

‘দুয়েক দিনের মধ্যে’ দেশে ফিরবেন জানিয়ে সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমার সকল সম্পদ বৈধ আয়ে উপার্জিত অর্থ দিয়ে কেনা। বাবার একমাত্র সন্তান হিসাবে পারিবারিকভাবে বেশ কিছু সম্পদও পেয়েছি। সেসবের কিছু বিক্রি করে নতুন করে সম্পদ কেনা হয়েছে। সে সব আয়কর নথিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।’

আছাদুজ্জামান বলছেন, তার ছেলে একটি বহুজাতিক কম্পানিতে বড় পদে আছেন এবং ছেলের বউ একটি বিদেশি ব্যাংকে চাকরি করেন। তার মেয়ে এবং জামাতা চিকিৎসক। তাদেরও সম্পদ কেনার ‘যোগ্যতা’ আছে। ‘ছেলে-মেয়ের অর্থ’ দিয়ে কেনা সম্পত্তিও পত্রিকার প্রতিবেদনে তার নামে প্রচার করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন সাবেক ডিএমপি কমিশনার।

তার দাবি, অতীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের ‘বিতর্কিত করতে একটি চক্র’ কাজ করছে। ওই চক্র এরইমধ্যে ‘অনেককে নিয়ে’ রিপোর্ট করেছে।

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের পর বর্তমানে সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামানের সম্পদ নিয়ে আলোচনা চলছে। এই নিয়ে প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করে দৈনিক মানবজমিন, পরে আরো কয়েকটি পত্রিকায় আছাদুজ্জামানের ‘বিপুল সম্পদের’ তথ্য তুলে ধরা হয়।

গত ১৬ জুন ‘মিয়া সাহেবের যত সম্পদ’ শিরোনামে মানবজমিনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বাড়ির পর বাড়ি। জমি এবং ফ্ল্যাটের সারি। কী নেই সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা আছাদুজ্জামান মিয়ার। রীতিমতো গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। তবে শুধু নিজের নামে নয়। স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ের নামেও বিপুল সম্পত্তি গড়েছেন ডিএমপি’র সাবেক এই কমিশনার।’

এরপর প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘পুলিশের সাবেক এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার স্ত্রীর নামে ঢাকায় একটি বাড়ি ও দুটি ফ্ল্যাট এবং মেয়ের নামে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে তার স্ত্রী ও সন্তানদের নামে ৬৭ শতক জমি রয়েছে। এই তিন জেলায় তার পরিবারের সদস্যদের নামে রয়েছে আরও ১৬৬ শতক জমি।’

এরপর আছাদুজ্জামান মিয়া অবৈধ উপায়ে এসব সম্পদের মালিক হয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে দুদক ‘তদন্তে নামতে পারে’ বলেও প্রতিবেদন প্রকাশ করে যুগান্তরসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম।

আছাদুজ্জামান মিয়া ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ডিএমপি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তাকে জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত সেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেয় সরকার। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়।

মিজান/

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে