ঢাকা, সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪
Sharenews24

ছাগলকান্ডে আলোচিত মতিউরের হদিস মিলেছে

২০২৪ জুন ২৫ ০৬:২১:৫৮
ছাগলকান্ডে আলোচিত মতিউরের হদিস মিলেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক সদস্য ড. মতিউর রহমানের হদিস মিলেছে। তিনি দেশেই আছেন। সোমবার (২৪ জুন) তিনি একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে খবর বেরিয়েছে।

এদিকে, বিপুল সম্পদের মালিক মতিউর রহমানকে এনবিআর থেকে সরিয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে (আইআরডিতে) সংযুক্ত করা হয়েছে। তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে বাহক মারফত যোগদানপত্র দাখিল করেছেন। আজ মঙ্গলবার অফিস করতে পারেন অথবা ছুটি নিতে পারেন বলে গণমাধ্যমটিকে মোবাইল ফোনে জানিয়েছেন।

গণমাধ্যমটিকে মতিউর বলেছেন, ‘আমার বিরুদ্ধে এত মিথ্যাচার কারা করেন, কেন করে বুঝতে পারছি না। আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। অনবরত মিথ্যাচার করে যাচ্ছে একটি গ্রুপ।’

মাথা ন্যাড়া করে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বলেন, ‘আমি মাথা ন্যাড়া করব কেন? কখনও আমি মাথা ন্যাড়া করিনি। আর দেশ থেকেও পালিয়ে যাইনি। পালাব কেন?’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার স্ত্রী নির্বাচন করবেন। সেই নির্বাচন ঠেকানোর জন্য একটি গ্রুপ এই ধরনের মিথ্যাচার করছে।’

এদিকে মতিউর রহমান, তার স্ত্রী লায়লা কানিজ ও ছেলে আহমদ তৌফিকুর রহমানের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন সোমবার এই আদেশ দেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আহমেদ আলী সালাম নিষেধাজ্ঞার এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। হুন্ডির মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগ দুদক অনুসন্ধান করছে। মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যরা বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এজন্য তাদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদন করেছে দুদক। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছেন। এবার পবিত্র ঈদুল আজহার সময় এনবিআরের সদস্য মতিউর রহমানের দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলে মুশফিকুর রহমান ১৫ লাখ টাকার ছাগল কিনতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় আসেন। ছেলের বিলাসী জীবনযাপনের সূত্র ধরেই মতিউরের সম্পদের বিষয়টি আলোচনায় আসে।

মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা একের পর এক সম্পদের তথ্য বেরিয়ে আসছে। এখন পর্যন্ত তার দুই স্ত্রী, সন্তান, ভাইবোনসহ নিকটজনদের নামে ছয় জেলায় জমি, ফ্ল্যাট, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, রিসোর্টসহ নানা সম্পত্তির খোঁজ পাওয়া গেছে। এর বাইরে শেয়ারবাজারেও তার বিশাল বিনিয়োগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকাতেই অন্তত ২ ডজন বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে মতিউর রহমানের স্ত্রী-সন্তান ও ঘনিষ্ঠদের নামে। বসুন্ধরার ডি ব্লকের ৭এ রোডের ৩৮৪ নম্বর ভবনের মালিক তিনি। সাত তলা ভবনের প্রথম দ্বিতীয় তলায় প্রথম স্ত্রী নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চেয়ারম্যান লায়লা কানিজকে নিয়ে সপরিবারে বাস করেন। গুলশানের সাহাবুদ্দিন পার্কের পাশে ৮৩ নম্বর রোডের ১১ নম্বর প্লটে আনোয়ার ল্যান্ডমার্কের বেগ পার্ক ভিউতে রয়েছে ৪টি ফ্ল্যাট।

দ্বিতীয় স্ত্রী শাম্মী আখতার থাকেন ধানমন্ডির ৮নং রোডের ৪১/২ ইম্পেরিয়াল ভবনে। কাকরাইলেও একটি ফ্ল্যাট রয়েছে ছোট স্ত্রীর নামে। ছেলে মুশফিকুর রহমান ইফাত ছাগলকাণ্ডে ভাইরাল হওয়ার পর তারা বর্তমানে কাকরাইলের ওই ফ্ল্যাটে অবস্থান করছেন। এছাড়া ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে একাধিক ফ্ল্যাটের হদিস পাওয়া গেছে। বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ডেভেলপার কোম্পানি শান্তা ডেভেলপারের করা বিভিন্ন ভবনে তার ৮টি ফ্ল্যাট রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব ফ্ল্যাট প্রথম স্ত্রীর সন্তান ফারজানা রহমান ইপ্সিতা ও ছেলে আহমেদ তৌফিকুর রহমান অর্ণবের নামে কেনা হয়েছে।

আইনগত ঝামেলা এড়ানোর জন্যে নিজের স্ত্রী, সন্তান ও আত্মীয়স্বজনের নামে সম্পদ গড়েছেন মতিউর রহমান। টঙ্গীতে ৪০ হাজার বর্গফুটের এসকে ট্রিমস নামে ব্যাগ ম্যানুফ্যাকচারিং ও এক্সেসরিজ কারখানা আছে তার। যদিও কাগজে-কলমে কারখানার মালিক তার ভাই এমএ কাইয়ুম হাওলাদার।

ময়মনসিংহের ভালুকায় ৩০০ বিঘা জমিতে ও বরিশালের গ্লোবাল সুজ নামে দুটি জুতা তৈরির কারখানা আছে। নরসিংদীর রায়পুরায় ওয়ান্ডার পার্ক অ্যান্ড ইকো রিসোর্ট রয়েছে। এসব রিসোর্টের মালিকানায় আছে তার ছেলে ও মেয়ে।

এছাড়াও পূর্বাচলে আপন ভুবন পিকনিক অ্যান্ড শ্যুটিং স্পটের মালিক তিনি। দেশের নামকরা ডেভেলপার কোম্পানিতে তার মালিকানা রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানটি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আই ব্লকে সোবহান অ্যাভিনিউর ৯-১০ নম্বর রোডের ৬৫৭ এ, ৬৫৭ বি এবং ৭১৬ নম্বর প্লটে বাণিজ্যিক ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে।

গাজীপুর সদর এলাকায় ১৭১নং এসএ দাগে ১০.৫০ শতাংশ, ১৭২নং এসএ দাগে ৩.৯০ শতাংশ, ১৬৩নং এসএ দাগে ৭.৫০ শতাংশ, ১৬৩নং এসএ দাগে ৬ শতাংশ, ১৭০নং এসএ দাগে ৬ শতাংশ, ১৬৩নং এসএ দাগে ৭ শতাংশ, ১৭০নং দাগে ৬ শতাংশ জমি রয়েছে।

এছাড়া সাভার থানার বিলামালিয়া মৌজায় ১৩০৩৫, ১৭৬৩ ও ১৭৬২নং দাগে ১২.৫৮ শতাংশ জমির খোঁজ পাওয়া গেছে। এ ৮টি খতিয়ানে ৬০ শতাংশ জমি রয়েছে। স্ত্রী লায়লা কানিজের নামে সাভার থানার বিলামালিয়া মৌজায় ১৩৬৯৬নং এসএ দাগে ১৪.০৩ শতাংশ, গাজীপুরে ৪৮.১৬ শতাংশ, ১৪.৫০ শতাংশ এবং ছেলে আহমেদ তৌফিকুর রহমান অর্ণব ও লায়লা কানিজের নামে .৪৫১৬২৫ একর জমি রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিন্যান্স বিভাগে পড়াশোনা করা মতিউর রহমান অনেক কোম্পানির ছায়া পরিচালক। একাধিক ছোট কোম্পানি শেয়ারবাজারে আনার মাধ্যমে বাজারসংশ্লিষ্টদের কাছে ব্যাপক পরিচিত লাভ করেন। শেয়ারবাজার কারসাজিতে জড়িতদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। এছাড়া, শেয়ারবাজারে মতিউর রহমানের নিজের নামে এবং তার স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েদের নামে ১৫টি বিও হিসাবে শতকোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে।

এএসএম/

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে