ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪
Sharenews24

মতিউর ও তার স্ত্রী-সন্তানদের ব্যাংক এবং বিও হিসাব স্থগিত

২০২৪ জুন ২৫ ২০:০৮:০১
মতিউর ও তার স্ত্রী-সন্তানদের ব্যাংক এবং বিও হিসাব স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক : ছাগলকাণ্ডে আলোচিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক সদস্য মো. মতিউর রহমান ও তার স্ত্রী-সন্তানদের আটটি ব্যাংক হিসাব ও বেনিফিশিয়ারি ওনার্স অ্যাকাউন্ট (বিও হিসাব) স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

এই সংক্রান্ত একটি চিঠি শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড কমিশন (বিএসইসি), শেয়ার সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান সিডিবিএল, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং ব্যাংকগুলোতে পাঠিয়েছে বিএফআইইউ।

মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ক্ষমতাবলে আর্থিক খাতের গোয়েন্দা সংস্থা বিএফআইইউ এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

যাদের ব্যাংক এবং বিও হিসাব স্থগিতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা হলেন- মো. মতিউর রহমান, তার প্রথম স্ত্রী লায়লা কানিজ, প্রথম স্ত্রীর মেয়ে ফারজানা রহমান (ইপসিতা) ও ছেলে আহাম্মেদ তৌফিকুর রহমান; দ্বিতীয় স্ত্রী শাম্মী আখতার শিবলী, দ্বিতীয় স্ত্রীর মেয়ে ইফতিমা রহমান মাধুরী, দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলে ছাগলকাণ্ডে আলোচিত মুশফিকুর রহমান ইফাত ও ইরফানুর রহমান ইরফান।

তাদের আটটি ব্যাংক হিসাব স্থগিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে এসব ব্যাংক হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি, লেনদেন বিবরণী ইত্যাদি তথ্য সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের দুর্নীতির বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে দুদকের পক্ষ থেকে মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে শেয়ারবাজারে থাকা বিও হিসাব জব্দের জন্য আবেদন জানানো হয়। দুদকের ওই আবেদনের পর বিএসইসি এসব বিও হিসাব জব্দের ব্যবস্থা নেয়।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত মতিউর ২০টির মতো ১৬টি বিও অ্যাকাউন্টের সন্ধান মিলেছে। এর মধ্যে মতিউর রহমানের নামে চারটি, প্রথম স্ত্রী লায়লা কানিজের নামে দুটি, প্রথম পক্ষের ছেলে আহমেদ তৌফিকুর রহমান অর্ণবের নামে দুটি, প্রথম পক্ষের মেয়ে ফারজানা রহমান ইপ্সিতার নামে তিনটি ও দ্বিতীয় স্ত্রী শাম্মী আখতার শিবলীর নামে পাঁচটি বিও হিসাব রয়েছে।

এই বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, দুদকের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের বিও হিসাব জব্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ঈদুল আযহার আগে ঢাকার সাদিক অ্যাগ্রো থেকে ১৫ লাখ টাকায় একটি ছাগল কিনতে গিয়ে আলোচনার জন্ম দেন মতিউর রহমানের ছেলে মুশফিকুর রহমান ইফাত। শুরুতে ইফাতকে ছেলে হিসেবে অস্বীকার করেন মতিউর রহমান। এই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা ও খবর প্রকাশিত হতে থাকে। মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে রিসোর্ট, শুটিং স্পট, বাংলো, জমিসহ নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির বিষয়ে গণমাধ্যমের খবরে আলোচনা শুরু হয়।

এরপর মতিউর রহমানকে কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের প্রেসিডেন্ট পদ থেকে প্রত্যাহার করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে সোনালী ব্যাংকের পরিচালক পদ থেকেও অপসারণ করা হয়েছে। এদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে তদন্ত টিম গঠন করেছে।

এএসএম/

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে