ঢাকা, শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪
Sharenews24

কারসাজির জন্যই সমতা লেদারের কৃত্রিম মুনাফা ও ডিভিডেন্ড!

২০২৩ ডিসেম্বর ০২ ১৪:৩৭:২৭
কারসাজির জন্যই সমতা লেদারের কৃত্রিম মুনাফা ও ডিভিডেন্ড!

নিজস্ব প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সমতা লেদার কমপ্লেক্স অনেক দিন থেকেই দূরবস্থার মধ্যে রয়েছে। এরমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে কোম্পানিটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম। যে কারণে ধারাবাহিক লোকসান হচ্ছে।

দুর্বল কোম্পানিটির ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানটির অনেক সম্পদ ইতোমধ্যে বিক্রি করে দিয়েছে এবং বাকিগুলোও বিক্রির চেষ্টায় রয়েছে। সেই কোম্পানির ২০২২-২৩ অর্থবছরের ব্যবসায় কৃত্রিম মুনাফা দেখিয়ে শুধুমাত্র সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ০.৪০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা হয়েছে। যার পেছনে রয়েছে শেয়ারটি নিয়ে কারসাজির উদ্দেশ্য।

সমতা লেদার কোম্পানির পাশেই ট্যানারির ব্যবসা করা একটি কোম্পানির কর্ণধার জানান, ভুল করেও এই কোম্পানির শেয়ার কেনা ঠিক হবে না। কারণ এখন এই কোম্পানির অস্তিত্ব আছে, সেটা বলাও ঠিক হবে না। যেটুকু সম্পদ আছে, তাও বিক্রির পাঁয়তারা চলছে। তাই বিনিয়োগকারীদের প্রতারিত হওয়ার আগেই সাবধান হতে হবে।

২০২২-২৩ অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টম্বর’২২) কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ০২ পয়সা। দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর’২২) লোকসান হয়েছে ০২ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ’২৩) বন্ধ কোম্পানিটির মুনাফা হয়েছে ০১ পয়সা। ফলে তিন প্রান্তিকশেষ লোকসান দাঁড়িয়েছে ০৩ পয়সা।

উল্লেখ্য, তৃতীয় প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ’২৩) মুনাফা প্রকাশ করা হয়েছে গত ২২ নভেম্বর।

আর ৩০ নভেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরের প্রতিবেদন ও ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা হয়েছে। যেখানে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি মুনাফা (ইপিএস) দেখানো হয়েছে ০৪ পয়সা এবং আলোচ্য মুনাফার ভিত্তিতে ০.৪০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা হয়েছে। ক্যাশ ডিভিডেন্ড কেবল সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ঘোষণা করা হয়েছে।

এতে দেখা যায়, চতুর্থ প্রান্তিকে বন্ধ কোম্পানির ইপিএস দেখানো হয়েছে ০৭ পয়সা। অর্থাৎ তৃতীয় প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) প্রান্তিকের প্রতিবেদন প্রায় ৮ মাস পরে ২২ নভেম্বর প্রকাশ করা হয়েছে। তার ৮ দিন পর ৩০ নভেম্বর চতুর্থ প্রান্তিকের মুনাফা ঘোষণা করা হয়েছে এবং ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা হয়েছৈ। এতে সহজেই বুঝা যায়, কোম্পানিটি যে কারসাজির উদ্দেশ্যেই কৃত্রিম মুনাফা প্রকাশ করেছে এবং ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে।

আবার সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির মুনাফা বেড়েছে, কিন্তু শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য কমেছে। ৩০ জুন, ২০২৩ তারিখে কোম্পানিটির সম্পদ মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৪ টাকা ২২ পয়সায়। যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১৪ টাকা ৩০ পয়সা। প্রশ্ন হল- অর্থবছরশেষে কোম্পানিটির যদি মুনাফাই বেড়ে থাকে, তাহলে সম্পদ মূল্য কমবে কেন?

যেদিন কোম্পানিটির মুনাফা ও ডিভিডেন্ড ঘোষণার খবর এসেছে, সেদিন (৩০ নভেম্বর) কোম্পানিটির শেয়ারদর ৬০ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭১ টাকা ১০ পয়সায়।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বল্প মূলধনী কোম্পানি হওয়ায় একটি চিহ্নিত চক্র কোম্পানিটির শেয়ার নিয়েই বছরজুড়েই কারসাজিতে মেতে রয়েছে। তাদের সঙ্গে কোম্পানিটির লোকজনও জড়িত। যে কারণে এক প্রান্তিকে লোকসান দেখালে পরের প্রান্তিকেই মুনাফা দেখায়। কারসাজিকারিদের সঙ্গে অসৎভাবে লাভবান হওয়ার জন্যই এই অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করছে কোম্পানিটির লোকজন। এটি দেখার কেউ নেই বলেই এমনিভাবে বিনিয়োগকারীদের বার বার ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা যদি সত্যি সত্যি বিনিয়োগকারীদের ভালো চায়, কল্যাণ চায়; তাহলে অবিলম্বে কোম্পানিটির সার্বিক কার্যক্রম ও আর্থিক প্রতিবেদন খতিয়ে দেখার উদ্যোগ গ্রহণ করবে। আর যদি তা না করে, তাহলে বাজারে যে গুঞ্জন রয়েছে কোম্পানিটির শেয়ার কারসাজির সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থার লোকজনও জড়িতি, সেটাই প্রমাণিত হবে।

শেয়ারনিউজ, ০২ ডিসেম্বর ২০২৩

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে