ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪
Sharenews24

ভারতের নির্বাচনে ইভিএমে গরমিল, লাভ বিজেপি ও শরিকদের

২০২৪ জুন ১৩ ২০:২৭:৫০
ভারতের নির্বাচনে ইভিএমে গরমিল, লাভ বিজেপি ও শরিকদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতে লোকসভা নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যারে বিশ্লেষণধর্মী এক প্রতিবেদনে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক পুনম আগরওয়াল লিখেছেন, লোকসভার ৫৪৩টি আসনের মধ্যে ১৪০টির বেশি আসনে ইভিএমে যে ভোট পড়েছে গণনায় তার চেয়ে বেশি ভোট দেখানো হয়েছে।

সাংবাদিক পুনম আগরওয়াল প্রতিবেদনে যে তথ্য তুলে ধরেছেন, তাতে দেখা যাচ্ছে ওইসব আসনে খুব অল্প ব্যবধানে বিজেপি ও এর শরিক দলগুলো ইন্ডিয়া জোটের প্রার্থীদের হারিয়েছে।

ভারতের সরকার গঠনের জন্য দরকার ২৭২টি আসন। এবারের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি এককভাবে পেয়েছে ২৪০টি আসন। তবে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ পেয়েছে ২৯৩টি আসন। আর কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট পেয়েছে ২৩৪টি আসন।

পুনম আগরওয়াল এর আগে ২০১৯ সালের ভারতীয় লোকসভা নির্বাচনেও ইভিএমে অনিয়মের অভিযোগ করেছিলেন। সংবাদমাধ্যম কুইন্টের রিপোর্ট নিয়ে চলতি বছর সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হয়। বেসরকারি সংস্থা দ্য অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্ম (এডিআর) একটি পিটিশন দায়ের করেছে।

যদিও শুনানিতে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় ইভিএম ভোটে অসঙ্গতির অভিযোগ আমলে নেয়নি। নির্বাচন কমিশন তখন বলেছিল যে আবেদনকারী এবং মিডিয়া কমিশনের অ্যাপে প্রকাশিত ভোটের আনুমানিক সংখ্যা বিবেচনায় নিয়েছে। এই কারণে প্রকৃত ভোটারের সঙ্গে তাদের সংখ্যা মেলেনি।

এবারের লোকসভা নির্বাচনে প্রায় সব আসনেই এই অসঙ্গতি দেখা গেছে। পুনম আগরওয়ালের মতে, দমন ও দিউ, লাক্ষাদ্বীপ এবং কেরালার আটিঙ্গলের মতো কয়েকটি কেন্দ্র বাদে, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পাঠানো সমস্ত ফলাফলে অসঙ্গতি দেখা গেছে। ১৪০টিরও বেশি আসনে ইভিএমে ভোট গণনায় বেশি ভোট পাওয়া গেছে। আর এই ভোটের ব্যবধান ২ থেকে ৩ হাজার ৮১১।

এছাড়া এমন অনেক নির্বাচনী এলাকা রয়েছে যেখানে দাবি করা ভোটের সংখ্যা গণনার সময় দেখা যায় তার চেয়ে কম। আর এই পার্থক্য ছিল সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ৭৯১।

এবার সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের চাপে ইভিএমে ভোটের প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশ করল ভারতের নির্বাচন কমিশন। তবে, লোকসভা নির্বাচনের প্রথম পাঁচ ধাপে, ভারতের ইসি মাত্র শতকরা হারে ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছে। গত ২৫ মে প্রথম পাঁচ দফার ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর ইসি বলেছিল, ভোটের সংখ্যায় কোনো পরিবর্তন হবে না।

এই অসঙ্গতি সম্পর্কে ভারতের নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। কিন্তু জয়ের ব্যবধান সংকুচিত সেসব ক্ষেত্রে অসঙ্গতি প্রশ্নবিদ্ধ থেকে যায়। যেমন মহারাষ্ট্রের মুম্বাইয়ে ইভিএমে ভোট পড়েছে ৯ লাখ ৫১ হাজার ৫৮০টি । কিন্তু চূড়ান্ত ফলে ভোট দেখানো হয়েছে ৯ লাখ ৫১ হাজার ৫৮২টি। অর্থাৎ দুটি ভোটের গরমিল। ওই কেন্দ্রে ৪৮ ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন বিজেপির জোট সঙ্গী শিবসেনার রবীন্দ্র দত্তরাম ভাইকার।

এদিকে রাজস্থানের জয়পুরে ইভিএমে ভোট পড়েছে ১২ লাখ ৩৮ হাজার ৮১৮টি। সেখানে চূড়ান্ত ফলে মোট ভোট সংখ্যা দেখানো হয়েছে ১২ লাখ ৩৭ হাজার ৯৬৬। পার্থক্য ৮৫২। এই আসনে বিজেপির রাজেন্দ্র সিং এক হাজার ৬১৫টি ভোটে জিতেছেন।

এদিকে, উত্তর প্রদেশের ফারুখাবাদে ১০ লাখ ৩২ হাজার ২৪৪টি ভোটে পড়েছে। কিন্তু ভোট গণনা হয়েছে ১০ লাখ ৩২ হাজার ২৪৪টি। এই আসনে প্রায় ৪৬০টি ভোট গণনা করা হয়নি। এই আসনে বিজেপির মুকেশ রাজপুত ২ হাজার ৬৭৮ ভোটে জয়ী হয়েছেন।

আর ছত্তিশগড়ের কাঁকের আসনে ১২ লাখ ৬১ হাজার ১০৩টি ভোট পড়ে বলে ইসি জানিয়েছিল। কিন্তু চূড়ান্ত ফলে ভোট সংখ্যা দেখানো হয় ১২ লাখ ৬০ হাজার ১৫৩টি। অর্থাৎ ৯৫০ ভোট কম। আর এখানে বিজেপির ভরোজরাজ নাগ ১ হাজার ৮৮৪ ভোটে জিতেছেন।

ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ভারতে লোকসভা নির্বাচনে চার দফা ভোটের পর ভোটারদের সঠিক সংখ্যা ইসিকে জানাতে ইসিকে চিঠি দিয়েছেন। ইসি এই বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছে।

লোকসভা নির্বাচনের ভোটের আগে ভারতে নির্বাচন কমিশন নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। সে দেশের নির্বাচন কমিশনের সদস্য তিনজন। কমিশনার অরুণ গোয়েল নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার আগে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছিলেন।

বিভিন্ন বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমারের সঙ্গে তার বিরোধ ছিল। এর এক মাস আগে অনুপ চন্দ্র পান্ডে নামে আরেক নির্বাচন কমিশনার স্বাভাবিক অবসরে যান। ফলে তিন সদস্যের মধ্যে দুটি পদ শূন্য হয়ে পড়ে।

এর আগে নির্বাচন কমিশন আইনে পরিবর্তন আনে মোদী সরকার। এর আগে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা ও ভারতের প্রধান বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত কমিটি নির্বাচন কমিশনারদের নাম চূড়ান্ত করত।

কিন্তু মোদি সরকার নতুন আইনে প্রধান বিচারপতির জায়গায় একজন সিনিয়র মন্ত্রীকে বসিয়েছে। কমিটিতে কোন মন্ত্রী আসবেন তা ঠিক করার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর।

স্বাভাবিকভাবেই কমিটির গঠনতন্ত্র বিলুপ্ত হয় এবং সরকার যাকে খুশি নিয়োগের ক্ষমতা পায়। এই নিয়ে বিরোধীরা সমালোচনা শুরু করে। তাদের অভিযোগ, নির্বাচন নিয়ে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে। ভোটের পর কমিশনের কার্যক্রম সেদিকেই ইঙ্গিত করছে।

শেয়ারনিউজ, ১৩ জুন ২০২৪

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে