ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪
Sharenews24

দ.কোরিয়ায় ট্রেনিংয়ে গিয়ে নারী সহকর্মীর সঙ্গে ফুর্তি, চুরি করে ধরা

২০২৪ জুন ১৬ ১১:৫৬:৩৫
দ.কোরিয়ায় ট্রেনিংয়ে গিয়ে নারী সহকর্মীর সঙ্গে ফুর্তি, চুরি করে ধরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে চাকরির সুযোগ পেয়েও যোগদানে অনীহা দেখাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু সংখ্যক চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী। দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরও তারা দেশে ফিরে হাসপাতালে যোগদান করছেন না।

জানা যায়, ১৫৭ চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর কোরিয়ায় গিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে যোগ দেওয়া কথা ছিল। তবে দেশে ফিরে ৭২ জন হাসপাতালে যোগ দিয়েছেন, ৮৫ জন যোগ দেননি।

অভিযোগ উঠেছে, তাদের কেউ বিদেশ ভ্রমণ হিসেবে, কেউ মোটা টাকা ভাতা পাওয়ার আশায় তদবির করে গিয়েছিলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন গণমাধ্যমকে জানান, প্রয়োজন ছাড়াই অনেকে প্রশিক্ষণ নিতে কোরিয়ায় যান। একজন সহকারী কন্ট্রোলার তো হোটেলের বাইরে গিয়ে নারী সহকর্মীর সঙ্গে ফুর্তি করার সময় ধরা পড়েন। বিষয়টি ই-মেইলে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। এজন্য তদন্ত কমিটিও হয়।

তিনি জানান, সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের আরেকজন সহকারী পরিচালক কসমেটিকসের দোকানে চুরি করে ধরা পড়েন। তিনি দুবার চুরি করে পার পেলেও তৃতীয়বার ধরা পড়েন। তাকে কোরিয়ান পুলিশ গ্রেপ্তার করে। বিষয়টি ই-মেইলে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষকে জানালে তাকে সাসপেন্ড করা হয়। পরে সাবেক ভিসি অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ তার চাকরি ফিরিয়ে দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে যোগ দেওয়ার শর্তে বিএসএমএমইউর ১৫৭ চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ২ থেকে ৪ মাসের প্রশিক্ষণে দক্ষিণ কোরিয়ায় যান।

বিএসএমএমইউর তথ্য অনুযায়ী, কোরিয়ায় প্রশিক্ষণ নিতে গিয়েছিলেন ১৫৭ জন। ৫২ চিকিৎসক, ২৯ কর্মকর্তা, ৫৩ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স ও ২৩ জন টেকনিশিয়ান। প্রশিক্ষণ শেষে ৬ চিকিৎসক, ৫ কর্মকর্তা, ৫০ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স ও ১১ জন টেকনিশিয়ানসহ ৭২ জন যোগ দিয়েছেন। ৮৫ জন যোগ দেননি।

শুধু যে চিকিৎসকরাই সুপার হাসপাতালে যোগদান করেননি এমন নয়। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৮৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীও সুপার হাসপাতালে যোগ দেননি। তাদের যারা ২ মাসের প্রশিক্ষণ নেন, তারা প্রতিদিন ৬০ ডলার ভাতা পেয়েছেন। এ হিসাবে প্রতিজন ২ মাসে সাড়ে ৩ লাখ টাকা ভাতা পেয়েছেন। তাদেরও আসা-যাওয়া, হোটেল ভাড়া, খাওয়া খরচ প্রভৃতি মিলিয়ে আরও কয়েক লাখ টাকা খরচ হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান দুলাল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সুপার স্পেশালাইজড প্রকল্পের শর্তের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রশিক্ষণের বিষয়টি ছিল। প্রকল্পের টাকায় তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে প্রশিক্ষণে কিছু অপ্রয়োজনীয় লোকও অংশ নিয়েছে। যাদের প্রশিক্ষণ কোনো কাজে আসছে না।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের উদ্বোধন করেন। এর ২ মাস পর ২৭ ডিসেম্বর দেশের প্রথম সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের আউটডোরে রোগীদের সেবা দেওয়া শুরু হয়। প্রতিদিন কয়েক হাজার রোগী হাসপাতালের আউটডোরে সেবা নিয়ে থাকে।

চলতি বছরের শুরু থেকে হাসপাতালের ইনডোর চিকিৎসাসেবা চালু করার কথা থাকলেও তা করা সম্ভব হয়নি। দক্ষ জনবল নিয়োগ না দেওয়া, অর্গানোগ্রাম না হওয়া, মেডিকেল অফিসার নিয়োগে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে হাসপাতালটি চালু করা সম্ভব হয়নি।

তারিক/

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে