ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪
Sharenews24

গাজায় কোকা-কোলার ফ্যাক্টরি, মালিক কে

২০২৪ জুন ১৬ ১২:১৬:৪৯
গাজায় কোকা-কোলার ফ্যাক্টরি, মালিক কে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি গণহত্যা অব্যাহত রয়েছে। এই কারণে, অনেক লোক কোকা-কোলা বয়কটের ডাক দিয়েছে এবং ইসরায়েলকে বৈশ্বিক কোমল পানীয় ব্র্যান্ড কোকা-কোলার সাথে সম্পর্ক থাকার অভিযোগ করেছে।

এই পরিস্থিতিতে, ইসরায়েলের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখা এবং বিশ্বব্যাপী ফিলিস্তিনপন্থীদের সহানুভূতি আদায়ের জন্যও কোকা-কোলা বলছে যে, ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় তাদের ফ্যাক্টরি আছে।

এর আগে, ২০১৬ সালের ১ ডিসেম্বর মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিউ আরবের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে পরাজিত গাজা উপত্যকায় কোকা-কোলার একটি কারখানা খোলার কাজ শুরু হয়েছে।

সেখানে বলা হয়, ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর কোকা-কোলা আনুষ্ঠানিকভাবে গাজায় তাদের ফ্যাক্টরি চালু করেছে। এর মাধ্যমে ছিটমহলটিতে শত শত কর্মসংস্থান সৃষ্টির কথাও বলা হয়েছিল।

কোকা-কোলা বোতলজাতকরণের জন্য প্রতিষ্ঠিত ফ্যাক্টরিটি এর কয়েক মাস আগে থেকেই চালু থাকলেও ৩০ নভেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে এটি যাত্রা শুরু করে।

এক বিবৃতিতে কোকা-কোলা ঘোষণা দিয়েছিল যে, ২ কোটি ডলার বিনিয়োগে গাজায় কোম্পানিটির প্রথম ফ্যাক্টরি চালুর মাধ্যমে প্রায় ১২০টি কর্মসংস্থান তৈরি হবে। এরপর এখানে কর্মসংস্থান ২৭০-এ উন্নীত করা হয়।

সেসময় ফিলিস্তিনে কোকা-কোলার ফ্যাক্টরি খোলার পেছনে ভূমিকা রাখা ন্যাশনাল বেভারেজ কোম্পানির (এনবিসি) প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান জাহি খৌরি গাজায় কোকা-কোলার প্ল্যান্টের উদ্বোধনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলেও আখ্যা দেন।

এক বিবৃতিতে কোকা-কোলার তৎকালীন সিইও মুহতার কেন্ট বলেছিলেন, ‘বিশ্বব্যাপী সম্প্রদায়গুলোতে বিনিয়োগ এবং তাদের অগ্রগতিতে সমর্থন করার ব্যাপারে আমাদের চলমান প্রতিশ্রুতির ইঙ্গিত দেয় গাজায় কোকা-কোলার নতুন প্ল্যান্ট।’ অবশ্য পশ্চিম তীরে এর আগেই এনবিসির আরও তিনটি বোতলজাতকরণের ফ্যাক্টরি ছিল।

গাজায় কোকা–কোলার ফ্যাক্টরি পরিচালনার বিষয়টি কোকা–কোলার অফিশিয়াল ওয়েবসাইটেও উল্লেখ রয়েছে।

সেখানে বলা হয়েছে, এনবিসি একটি স্বাধীন কোম্পানি। তবে কোকা–কোলার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধভাবে এটি পরিচালিত হয়। ১৯৯৮ সাল থেকে এনবিসির সঙ্গে যৌথভাবে কোকা–কোলা গাজায় স্কুল পরিচালনা, রোজায় ইফতার বিতরণ থেকে শুরু করে নানা ধরনের সমাজসেবামূলক কাজ করে বলেও ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়েছে।

এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হত্যাযজ্ঞে ৩৭ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গত নভেম্বরে ইসরায়েলের প্রতি কথিত সমর্থনের জন্য কোকা-কোলা বয়কটের ঘোষণা দেয় তুরস্কের পার্লামেন্ট।

এর প্রভাব পড়ে বাংলাদেশেও। এতে করে বাংলাদেশে কোকা-কোলার বিক্রি ২৩ শতাংশ কমে যায়।

অন্যদিকে, আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কোমল পানীয় মোজো কোলা থেকে একটি নির্দিষ্ট অংশ ফিলিস্তিনের তহবিলে দান করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর মোজোর বিক্রি ১৪০ শতাংশ বেড়েছিল।

জানা গেছে, ২০০৫ সালে চালু হওয়া ফিলিস্তিনপন্থী মানবাধিকার গোষ্ঠী দ্য বয়কট, ডাইভেস্টমেন্ট অ্যান্ড স্যাংকশনস মুভমেন্ট (বিডিএস) ইসরায়েলের দখলকৃত পশ্চিম তীরের আতারোতে অবৈধ বসতিতে ফ্যাক্টরি চালু করায় কোকা-কোলার সমালোচনা করেছে।

তারিক/

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে