ঢাকা, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪
Sharenews24

জালালাবাদ গ্যাসের বিরুদ্ধে ২৬৬ কোটি টাকার মামলায় জিতেছে লাফার্জ

২০২৩ সেপ্টেম্বর ১৬ ২৩:৩৫:০১
জালালাবাদ গ্যাসের বিরুদ্ধে ২৬৬ কোটি টাকার মামলায় জিতেছে লাফার্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিঙ্গাপুর ভিত্তিক আন্তর্জাতিক আরবিট্রেশন ট্রাইব্যুনালের আদেশ অনুসারে জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডকে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেডকে ২৬৬ কোটি টাকা ফেরত দিতে হবে। এই অর্থ লাফার্জহোলসিম থেকে অতিরিক্ত গ্যাস বিল হিসাবে আদায় করা হয়েছে।

ট্রাইব্যুনাল গ্যাস বিক্রয় চুক্তির (জিএসএ) সিলিং মূল্য বিধানের বৈধতাও ঘোষণা করেছে এবং লাফার্জহোলসিম ইনভয়েজের বেশি মূল্য পরিশোধ করা থেকেও অব্যাহতি দিয়েছে।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সালিসি ট্রাইব্যুনাল লাফার্জহোলসিমের পক্ষে আদেশ ঘোষণা করে।

যদিও দুই বছর আগে লাফার্জহোলসিমকে ৯০ কোটি ২৫ লাখ টাকা জালালাবাদ গ্যাসকে পরিশোধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের হেড অব কমিউনিকেশন তৌহিদুল ইসলাম সংবাদ মাধ্যম বলেন, " আদেশটি আমাদের কোম্পানির পক্ষে এসেছে। বর্তমানে আমাদের আইন বিশেষজ্ঞরা আদেশটি পর্যালোচনা করছে।"

এদিকে, জালালাবাদ গ্যাসের উপ-মহাব্যবস্থাপক (আইন বিষয়ক) জিতেন্দ্র কুমার দাস বলেন, আমরা এখনো সালিশি ট্রাইব্যুনালের আদেশ পাইনি।

এর আগে ২০২১ সালে আপিল বিভাগ লাফার্জহোলসিমকে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত হারে গ্যাস বিল পরিশোধের নির্দেশ দেয়। যার ফলে বহুজাতিক সিমেন্ট নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি ওই বছরের জুন মাসে জিএসএ মূল্যের চেয়ে ২৬৬ কোটি টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ করে।

লাফার্জহোলসিম ১৫ বছর আগে ২০০৩ সালের জানুয়ারিতে জালালাবাদ গ্যাসের সাথে স্বাক্ষরিত জিএসএ অনুযায়ী গ্যাসের শুল্ক পরিশোধ করছিল।

জালালাবাদ গ্যাস কর্মকর্তার মতে, জিএসএ-এর মেয়াদ ২০২৫ সাল পর্যন্ত। "কিন্তু যখন এটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তখন গ্যাসের দাম বাড়লে অ্যাডজাস্ট করার জন্য চুক্তি নবায়নের কোনো বিধান ছিল না।"

লাফার্জহোলসিম জালালাবাদ গ্যাস থেকে তার গ্যাস ব্যবহারের বিপরীতে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের শুল্ক হিসাবে ৭ টাকা ৯১ পয়সা পরিশোধ করছিল, যার সর্বোচ্চ মূল্য ছিল ২.৮ ডলার প্রতি এমসিএফ (১ হাজার ঘনফুট)।

কিন্তু যখন ক্যাপটিভ সেক্টরে ব্যবহৃত গ্যাসের প্রতি ইউনিটের দাম সেপ্টেম্বর ২০১৫ সালে বিইআরসি কর্তৃক ঘোষিত নতুন হারে চুক্তিতে উল্লিখিত ‘সর্বোচ্চ স্ল্যাব’ ছাড়িয়ে যায়, তখনই উভয় সংস্থার মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।

নতুন হার অনুযায়ী, দেশের সিমেন্ট কারখানার শুল্ক প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্টের জন্য প্রতি ঘনমিটারে ১৩ টাকা ৮৫ পয়সা এবং গ্যাস ব্যবহারের জন্য প্রতি ঘনমিটারে ১০ টাকা ৭০ পয়সা হয়েছে।

জালালাবাদ গ্যাস সূত্র জানায়, লাফার্জহোলসিম প্রতিদিন প্রায় ১৬ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস ব্যবহার করছে যার মধ্যে এটি সিমেন্ট উৎপাদনের জন্য একটি বয়লার চালাতে ১২.৩০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং অবশিষ্ট ৩.৭০ মিলিয়ন ঘনফুট একটি ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট চালাতে খরচ করে।

তবে বিইআরসির নতুন মূল্যে লাফার্জহোলসিম গ্যাসের বিল পরিশোধ না করায় জালালাবাদ গ্যাস ক্ষতির মুখে পড়েছে।

এই কারণে আগের চুক্তি নবায়ন করা যৌক্তিক হয়ে ওঠে। কিন্তু বারবার চেষ্টা করেও বর্ধিত গ্যাসের দাম যোগ করে চুক্তি করা সম্ভব হয়নি।

এই বিষয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার বৈঠক করার চেষ্টা করেও কোনো ফলাফল পায়নি।

পরে লাফার্জহোলসিমকে চূড়ান্ত নোটিশ দেয় জ্বালানি বিভাগ। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন চুক্তি স্বাক্ষর না করলে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে বলেও সতর্ক করা হয় সিমেন্ট নির্মাতাটিকে।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে লাফার্জহোলসিম আন্তর্জাতিক সালিসি ট্রাইব্যুনালে বিরোধ সমাধানের জন্য জালালাবাদ গ্যাসকে সালিশি নোটিশ জারি করে।

এরপর গত ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সালিসি ট্রাইব্যুনাল লাফার্জহোলসিমের পক্ষে আদেশ ঘোষণা করে।

শেয়ারনিউজ, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে