ঢাকা, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪
Sharenews24

ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে ছয় বিমার শেয়ার, সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ

২০২৩ সেপ্টেম্বর ১৮ ১৯:৫৪:১০
ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে ছয় বিমার শেয়ার, সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদক: কোন শেয়ারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোম্পানিটির শেয়ারের আরএসআই কত সেটা দেখে বিনিয়োগ করে দক্ষ বিনিয়োগকারীরা। রিলেটিভ স্ট্রেনথ ইনডেক্স বা আরএসআই যদি কোন শেয়ারের ৮০ এর উপরে থাকে, তাহলে বুঝে নিতে হবে ওই শেয়ার অতি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। সে ক্ষেত্রে এ সমস্ত শেয়ারে বিনিয়োগ থেকে দূরে থাকাই বাঞ্ছনীয়। সে হিসেবে বর্তমানে বিমা খাতের ছয়টি কোম্পানির শেয়ার অতি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, আরএসআই ৩০ এর নিচে থাকলে সেই শেয়ারে বিনিয়োগ ঝুঁকিমুক্ত মনে করা হয়। আর ৮০ এর উপরে থাকলে সেই শেয়ার অতি ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়। আরএসআই এর হিসেব অনুযায়ী বিমা খাতের ছয়টি কোম্পানির মধ্যে রয়েছে সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্সে, ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স, কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স এবং রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড।

ইতোমধ্যে এই কোম্পানিগুলোর শেয়ার নিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) একাধিকবার বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করেছে। কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর বৃদ্ধির পেছনে কোন মূল্য সংশোধনী তথ্য নেই বলে ডিএসইকে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এরপরও এই কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর বেড়েই চলেছে।

সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স

কোম্পানিটির শেয়ারের বর্তমান আরএসআই ৮১.৪১। গত ২৯ আগস্ট কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ৩৬ টাকা ৬০ পয়সায়। মাত্র ১২ কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ৭ টাকা ৮০ পয়সা বা ২১.৩১ শতাংশ। সর্বশেষ কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪৪ টাকা ৪০ পয়সায়।

সর্বশেষ দুই প্রান্তিক বা ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন’২৩) কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ০৫ পয়সা। যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১ টাকা ২৫ পয়সা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪৯ টাকা ০২ পয়সা।

ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স

কোম্পানিটির শেয়ারের বর্তমান আরএসআই ৮৬.১০। গত ১৩ জুলাই কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ৪১ টাকা ২০ পয়সা। মাত্র দুই মাসে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ৭৪ টাকা ৫০ পয়সায় বা ১৮০.৮২ শতাংশ। সর্বশেষ কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১১৫ টাকা ৭০ পয়সায়।

সর্বশেষ দুই প্রান্তিক বা ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন’২৩) কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৭৮ পয়সা। যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৩০ পয়সা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য দাঁড়িয়েছে ২৪ টাকা ৯২ পয়সা।

ইস্টল্যান্ড ইন্স্যিুরেন্স

কোম্পানিটির শেয়ারের বর্তমান আরএসআই ৮২.১৩। গত ২৯ আগস্ট কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ২৫ টাকা ৪০ পয়সা। মাত্র ১২ কাযদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ৬ টাকা ৪০ পয়সায় বা ২৫.৩৯ শতাংশ। সর্বশেষ কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩১ টাকা ৬০ পয়সায়।

সর্বশেষ দুই প্রান্তিক বা ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন’২৩) কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ৭৮ পয়সা। যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৮০ পয়সা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য দাঁড়িয়েছে ২১ টাকা ১১ পয়সা।

কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স

কোম্পানিটির শেয়ারের বর্তমান আরএসআই ৮৩.৮৭। গত ১৬ আগস্ট কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ৩১ টাকা ৩০ পয়সা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ১১ টাকা বা ৩৫.১৪ শতাংশ। সর্বশেষ কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪২ টাকা ৩০ পয়সায়।

সর্বশেষ দুই প্রান্তিক বা ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন’২৩) কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ০৭ পয়সা। যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১ টাকা ১৬ পয়সা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য দাঁড়িয়েছে ২১ টাকা ৭৮ পয়সা।

প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স

কোম্পানিটির শেয়ারের বর্তমান আরএসআই ৯০.৯০। গত ১৭ আগস্ট কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ৪১ টাকায়। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ৩৬ টাকা ১০ পয়সা বা ৮৮.০৮ শতাংশ। সর্বশেষ কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৭৭ টাকা ১০ পয়সায়।

সর্বশেষ দুই প্রান্তিক বা ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন’২৩) কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ১২ পয়সা। যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৫০ পয়সা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য দাঁড়িয়েছে ২৬ টাকা ৯১ পয়সা।

রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স

কোম্পানিটির শেয়ারের বর্তমান আরএসআই ৮৩.৪৮। গত ১৬ আগস্ট কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ৩৪ টাকা ৬০ পয়সা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ১৫ টাকা ১০ পয়সা বা ৪৩.৬৪ শতাংশ। সর্বশেষ কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪৯ টাকা ৭০ পয়সায়।

সর্বশেষ দুই প্রান্তিক বা ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন’২৩) কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ২৩ পয়সা। যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১ টাকা ২০ পয়সা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ২৪ পয়সা।

এই ছয় কোম্পানির মধ্যে চারটিরই গত ছয় মাসে মুনাাফা কমেছে আগের বছরের তুলোনায়। আর দুটির মুনাফা বাড়লেও তা খুবই কম। এর পরেও কোম্পানিগুলোর শেয়ারের এমন অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধিকে শেয়ারবাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। আগের বছর মুনাফা কম হওয়াতে কোম্পানিগুলো ডিভিডেন্ডও কম দিয়েছে বিনিয়োগকারীদের জন্য। তবুও এই কোম্পানিগুলোর শেয়ার যেন বাজারে রেসের ঘোরার মতো দৌড়াচ্ছে।

২০২০ সালেও বিমা খাতের কয়েকটি কোম্পানির শেয়ার নিয়ে কারসাজি হয়েছিল। সেই সময়েও কয়েকটি বিমা কোম্পানির শেয়ারের দর বৃদ্ধি করে বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলেছিল কারসাজি চক্র। ৩০ টাকার শেয়ারকে বাড়িয়ে করা হয়েছিল ৩০০ টাকা। বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছিল ৭-১০ গুণ। সেই শেয়ার বেশি দামে কিনে পথে বসেছে বহু সাধারণ বিনিয়োগকারী। শেয়ারবাজারও ছেড়েছে অনেকে।

সেই চক্রটি আবারও কয়েকটি বিমা কোম্পানির শেয়ার নিয়ে কারসাজিতে মেতে উঠেছে। কয়েকটি কোম্পানির শেয়ার ইতোমধ্যে বেড়ে হয়েছে ২-৩ গুণ। এরই ফলে ছয়টি কোম্পানির শেয়ারের আরএসআই অতি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে উঠে এসেছে। এই কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে শেয়ারবাজার বিশ্লেষকরা।

শেয়ারনিউজ, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে