ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ মে, ২০২৪
Sharenews24

অভিনব পন্থায় চলছে অবৈধ হুন্ডি লেনদেন

২০২৪ এপ্রিল ১৪ ০৬:৩৯:৫২
অভিনব পন্থায় চলছে অবৈধ হুন্ডি লেনদেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যাংকিং চ্যানেল বাদ দিয়ে অভিনব পন্থায় চলছে অবৈধ হুন্ডি লেনদেন। সরকারি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো যদিও দাবি করছে অবৈধ আর্থিক লেনদেন ও হুন্ডি রোধে কাজ করছে তারা।

তারপরও কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না অবৈধ হুন্ডি লেনদেন । হুন্ডি চক্র অভিনব উপায়ে অবৈধ লেনদেনের জন্য প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বলছে, হুন্ডি প্রতিরোধে তারা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

রেমিট্যান্স আহরণের পথে বড় বাধা

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির কাছে দেওয়া এক প্রতিবেদনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রেমিট্যান্স আহরণের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে হুন্ডি।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জানানো হয়েছে, মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কাজে অর্থায়ন প্রতিরোধে বিএফআইইউ হন্ডি তথা অনলাইন গ্যাম্বলিং, গেমিং, বেটিং, ফরেক্স এ ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে অর্থ পাচার রোধসহ সব ধরনের অর্থ পাচার রোধে অন্যান্য সংস্থাগুলোর সঙ্গে একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।

বিএফআইইউ-এর তথ্য অনুযায়ী, হুন্ডি প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকার বিষয়ে ছয়টি মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ডিস্ট্রিবিউটরের বিষয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদন হাতে পেয়েছে সিআইডি। এরমধ্যে দুটি ডিস্ট্রিবিউটরের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, হুন্ডি লেনদেনে জড়িত সন্দেহে ৫ হাজার ২৯টি এমএফএস এজেন্টশিপ বাতিল করা হয়েছে। এই সংক্রান্ত অভিযোগে ৫ হাজার ৭৬৬ জন এজেন্টের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে তাদের তথ্য সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে।

সিআইডি সূত্র জানায়,হুন্ডির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ২১টি মানিচেঞ্জার প্রতিষ্ঠান ও এদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ৩৯টি হিসাবের তথ্য এখন সিআইডির হাতে।

হুন্ডি সংশ্লিষ্ট নগদ ও সন্দেহজনক লেনদেন সম্পর্কিত তথ্য ও ১৫১টি গোয়েন্দা প্রতিবেদনও রয়েছে তাদের হাতে। ডিজিটাল হন্ডির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেনদেন সহজে শনাক্তকরণের জন্য ইন্ডিকেটর প্রস্তুত করে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরবরাহ করা হয়েছে।

ইন্ডিকেটরগুলোর আওতায় এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে তথ্য সংগ্রহ করে অনলাইন জুয়া ও হন্ডির সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ৩৮ হাজার ১৪৩ টি ব্যক্তিগত এমএফএস হিসাব স্থগিত করা হয়েছে।

অবৈধ হন্ডি, গেমিং, বেটিং, ক্রিপ্টোকারেন্সি সংক্রান্ত বিষয়ে এক হাজার ৪১টি ওয়েবসাইট, ১৭৯টি অ্যাপ এবং ৮০৩টি ফেসবুক, ইউটিউব ও ইনস্ট্রাগ্রামের সোশ্যাল মিডিয়া পেজ ও লিংক চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে বিএফআইইউ’র পক্ষ থেকে।

হুন্ডি প্রতিরোধ সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান মো. মাসুদ বিশ্বাস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বিএফআইইউ। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকেন।

যার অংশ হিসেবে হুন্ডি প্রতিরোধে তারা বেশ কিছু কাজ করে থাকেন। বাংলাদেশ থেকে যাতে যাতে অর্থ পাচার না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবাই সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

অভিনব পদ্ধতিতে চলছে হুন্ডি

সিআইডি’র প্রধান মোহাম্মদ আলী মিয়া হুন্ডি নিয়ে গত ৩১ মার্চ সাংবাদিকদের বলেছেন, জেট রোবটিক অ্যাপের মাধ্যমে অভিনব পদ্ধতিতে হুন্ডির সন্ধান পেয়েছেন তারা।

এরপর গত তিন মাসে হুন্ডির মাধ্যমে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা আসতে বাধা সৃষ্টি করেছে সিআইডি। এই চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তাদের ডিভাইসগুলো বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই চক্রের সদস্যরা দুবাই থেকে এই ডিজিটাল হুন্ডির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে।

তিনি জানান, এই চক্রের মূল হোতা শহিদুল ইসলাম ওরফে মামুন। মালয়েশিয়ান সফটওয়্যার ডেভেলপারের মাধ্যমে তৈরি করা অ্যাপ কাস্টমাইজ করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে চক্রটি।

তখন এজেন্ট সিমগুলো বাংলাদেশে থাকলেও এর নিয়ন্ত্রণ তারা দুবাই বসে করতে পারে। দুবাই বসেই তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন নম্বরে ক্যাশ-ইন এর মাধ্যমে টাকা পাঠাতে পারে। তবে এর সঙ্গে জড়িত ও চিহ্নিতদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ঈদকেন্দ্রিক হুন্ডি প্রতিরোধে কী পদক্ষেপ নিয়েছে সিআইডি—জানতে চাইলে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের ডিআইজি কুসুম দেওয়ান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, শুধু ঈদকেন্দ্রিক নয়, হুন্ডি প্রতিরোধে সিআইডি সারাবছরই কাজ করে যাচ্ছে। এ নিয়ে তাদের নানা উদ্যোগও রয়েছে।

সচেতনতা সৃষ্টি

হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচার প্রতিরোধে আপামর জনগোষ্ঠির মাঝে আর্থিক স্বাক্ষরতা বিস্তারে ২০২১ থেকে ২০২৬ মেয়াদে কর্মসূচি চলছে। এই কর্মসূচিতে হুন্ডি প্রতিরোধ এবং প্রবাসী ও প্রবাসী শ্রমিকদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিটেন্স প্রবাহ বৃদ্ধির কাজ করা হচ্ছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে ২৭টি দেশের ৩০টি শ্রম কল্যাণ উইং হন্ডি প্রতিরোধ ও ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে প্রবাসী কর্মীদের সঙ্গে উদ্বুদ্ধকরণ সভা করছে এবং লিফলেট বিতরণ করছে।

হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচার রোধে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যোগাযোগের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং এই বিষয়ে একটি নীতিমালা করা হয়েছে।

নীতিমালা প্রণয়নে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে।

শেয়ারনিউজ, ১৪ এপ্রিল ২০২৪

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে