ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪
Sharenews24

ইতালিতে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে ঢুকে পড়েছে মাফিয়া

২০২৪ জুন ১০ ২৩:০৫:০৫
ইতালিতে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে ঢুকে পড়েছে মাফিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক : ইতালিতে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মাফিয়া ঢুকে পড়ার অভিযোগ করে সেখানে বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে ভিসা কেনাবেচার কথা তুলে ধরেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জা মেলোনি।

দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে শ্রম ভিসায় ঢোকার ব্যক্তিদের তুলনায় কাজের চুক্তি সইয়ের পরিমাণ অতি নগন্য হওয়ার কথা তুলে ধরে জর্জা মেলোনি বলেন, কাজের জন্য বৈধ অভিবাসনের প্রক্রিয়াকে অবৈধ অভিবাসনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সংগঠিত অপরাধীচক্র আবেদন প্রক্রিয়ায় অনুপ্রবেশ করেছে এবং এক্ষেত্রে তারা ‘বৈধ পথে ঢোকার ডিক্রিকে’ ব্যবহার করে আইনি ও ঝুঁকিমুক্তভাবে এমন লোকদের ইতালিতে প্রবেশ করাচ্ছে, যারা এমনিতে প্রবেশ করতে পারত না।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী বলেন, কূটনৈতিক কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশে সেখানে কাজের ভিসা বেচাকেনা করার কথা বলেছে। ভিসার কেনাবেচার ক্ষেত্রে ১৫ হাজার ইউরো পর্যন্ত হাতবদল হওয়ার কথাও বলেন মেলোনি।

চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ইতালিতে অবৈধ অভিবাসীদের হিসাবে বাংলাদেশিরা এক নম্বরে থাকার কথা তুলে ধরে ইতালির প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতালিতে কর্মী সংকট কাটাতে ও অবৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশ বন্ধ করতে ২০২২ সালে বিপুল সংখ্যক কর্মী নেয়ার ঘোষণা দেয় ইতালি।

এর আওতায় ২০২৩ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিন বছরে ধারাবাহিকভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের ৩৩টি দেশ থেকে প্রাঁয় পাচ লাখ কর্মী নেওয়ার প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের আবেদন প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মী আবেদন করেন বৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশের জন্য।

খুব দ্রুত প্রক্রিয়া শেষ করে দেশটিতে বৈধভাবে প্রবেশ করলেও দেশটিতে পৌঁছানোর পর নির্দিষ্ট মালিকের সঙ্গে কাজ না করে বা নির্দিষ্ট মেয়াদের পর থেকে গিয়ে অবৈধ হয়ে যাচ্ছেন এসব কর্মী। এরমধ্যে বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া ইতালির কাজের ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে ‘ব্যাপক দুর্নীতির’ অভিযোগও আসছে।

এদিকে ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশে ইতালির ভিসা ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার ইউরো করে কেনা-বেচা হয়। বাংলাদেশ ও ইতালিতে থাকা কিছু সংঘবদ্ধ চক্র এর সঙ্গে জড়িত, যারা নামে-বেনামে শুধুমাত্র কাগজে-কলমে কোম্পানি বানিয়ে মানবপাচার করছে। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ইতালিতে অবৈধ হয়ে পড়া অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশিরা রয়েছে শীর্ষস্থানে।

এসব মানবপাচার ও ভিসা কেনা-বেচার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেশটির আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর 'এন্টি-মাফিয়া’ গ্রুপের প্রসিকিউটর জোভান্নি মেলিল্লোকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অবৈধ অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরাতে নতুন কৌশল নিয়ে চিন্তাভাবনার কথা বলা হয়েছে।

এই বিষয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশটির এন্টি-মাফিয়া দলের প্রসিকিউটর বলেন, "মন্ত্রিপরিষদের নির্দেশে আমরা ইতালিতে শ্রমিক প্রবেশের প্রতিটি ধাপ এখন থেকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করব। সব ধরনের মানবপাচারের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থানে কাজ করে যাচ্ছি। এখন থেকে প্রতিটি কোম্পানির সকল ধরনের তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে আবারো পুনরায় আমরা যাচাই বাছাই করে শ্রমিক আনার অনুমতি দেব"।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, বৈধভাবে এবং অবৈধভাবে দুইভাবেই এবছর দেশটিতে বাংলাদেশি নাগরিকরা প্রবেশ করেছে সবচেয়ে বেশি। একদিকে চলতি বছরের প্রথম ৫ মাসে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশ করেছে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি। আবার গত দুই বছরে বৈধ প্রক্রিয়ায় ইতালিতে প্রবেশের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশিরা শীর্ষে আছে।

২০২২ সালে ইউরোপের দেশটিতে প্রবেশ করা মোট বিদেশি কর্মীর মধ্যে ৪৫.৪ শতাংশ ছিল বাংলাদেশি। আর ২০২৩ সালে ৬১.১ শতাংশ এবং ২০২৪ সালের এখন পর্যন্ত ৫১.১ শতাংশ বাংলাদেশি কর্মী সে দেশে প্রবেশ করেছে।

শেয়ারনিউজ, ১০ জুন ২০২৪

পাঠকের মতামত:

প্রবাস এর সর্বশেষ খবর

প্রবাস - এর সব খবর



রে